দুবাইয়ে টাকা পাচার করছে হাসনাত-সার্জিসরা
সাবেক দুই সমন্বয়কের বিরুদ্ধে দুবাইতে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ: হুন্ডির মাধ্যমে যাচ্ছে দৈনিক ১০ লাখ টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
সাবেক দুই সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলমের বিরুদ্ধে দুবাইতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তারা দুজন মিলে হুন্ডির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ টাকা দুবাইতে পাচার করছেন। গত কয়েক মাস ধরে এই অর্থ দুবাইয়ের দুটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা কেনা।
সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, এই অর্থ পাচারের জন্য একটি শক্তিশালী এবং সংঘবদ্ধ হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। দুবাই-ভিত্তিক হুন্ডি ব্যবসায়ী হাবিব ও শাহাদাত নামে দুজন এই চক্রকে সরাসরি সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় হাসনাত ও সারজিস গত কয়েক মাস ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।
দুবাইয়ের দুই ব্যাংকে জমছে টাকা
পাচারকৃত অর্থ জমা রাখার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি प्रतिष्ठित ব্যাংককে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক দুটি হলো মাশরেক ব্যাংক (Mashreq Bank) এবং এমিরেটস ইসলামিক ব্যাংক (Emirates Islamic Bank)। যে দুটি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে তার আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর (IBAN) নিচে দেওয়া হলো:
মাশরেক ব্যাংক: IBAN: AE53034000896140434501
এমিরেটস ইসলামিক ব্যাংক: IBAN: AE53037758926705489903
লক্ষ্য বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়
জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমানোর মূল উদ্দেশ্য হলো দুবাইতে বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনা। দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দামাক হিলস-২ (Damac Hills 2)-এ একটি বিলাসবহুল ভিলা কেনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাচারকৃত অর্থ দিয়েই এই ভিলাটি কেনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের দাবি বিশেষজ্ঞদের
এই ঘটনাটি দেশের অর্থনীতি থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ার একটি গুরুতর উদাহরণ। এত সুনির্দিষ্ট তথ্য, বিশেষ করে ব্যাংকের নাম এবং আইব্যান নম্বর প্রকাশ্যে আসায় বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত দ্রুত তদন্ত শুরু করা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বন্ধ এবং অর্থ পাচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
